Responsive Menu
Add more content here...

Shane Sahaba Council

ঈদুল ফিতরের বিশেষ খুতবা

মুফতি শামীম মজুমদার

🔹সালাম, হামদ ও সানারপর।

এক.

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় কিভাবে করবো?

প্রিয় উপস্থিতি, আজ মুসলিম উম্মাহ’র ১৪৪৪ তম ঈদুল ফিতর দিবস। আমি আপনাদের সকলকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। “ঈদ মুবারাক।”
تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكم-

ঈদের শুভেচ্ছা আমরা অনেকে অনেকভাবেই উপস্থাপন করেথাকি। কিন্তু যেহেতু কুরআনুল কারিমের সুরা বাকারার ১৩ নং আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা বান্দাকে উদ্দেশ্যকরে ইরশাদ করেছেন-

اٰمِنُوۡا کَمَاۤ اٰمَنَ النَّاسُ
‘তোমরা ঈমান আনো, যেমনিভাবে তারা ঈমান এনেছে।’
এ আয়াতে ‘তারা’ বলতে, মহান আল্লাহ নবীজী আলাইহিসসালামের প্রিয় সাহাবীদের কথাই বুঝিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।

যারা সাহাবায়ে কেরামকে অনুসরণ করবে, মহান আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কুরআনুল কারিমের সুরা তওবার ১০০ নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন-
وَٱلسَّٰبِقُونَ ٱلۡأَوَّلُونَ مِنَ ٱلۡمُهَٰجِرِينَ وَٱلۡأَنصَارِ- وَٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُم بِإِحۡسَٰنٖ- رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُ- وَأَعَدَّ لَهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي تَحۡتَهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۚ- ذَٰلِكَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ-

“মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য”।

প্রশ্ন হল, মুহাজির ও আনসারী সাহাবাগণ কিভাবে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন?

এ বিষয়ে বিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৬২৯৪ এবং মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-৩২৫৫ তে এসেছে।

عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ: لَقِيتُ وَاثِلَةَ بْنَ الْأَسْقَعِ فِي يَوْمِ عِيدٍ , فَقُلْتُ: تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَ , فَقَالَ: ” نَعَمْ، تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَ ” , قَالَ وَاثِلَةُ: ” لَقِيتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عِيدٍ فَقُلْتُ: تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَ , قَالَ: ” نَعَمْ , تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَ “

বিশিষ্ট তাবিঈ হযরত খালিদ বিন মা’দান রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন- তিনি বলেন, আমি ওয়াছিলা বিন আসক্বাহ রাদিআল্লাহু আনহুর সাথে ঈদের দিন সাক্ষাত করলাম। তখন আমি তাকে বলি- ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’। জবাবে তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকা’। ওয়াছিলা আরো বললেন- আমি একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ঈদের দিন সাক্ষাত করেছিলাম। তখন বলেছিলাম- ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকা’। তখন তিনিও বলেছিলেন- ‘হ্যাঁ, তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকা’।

উপরোক্ত হাদীসহতে যে আমলটি আমরা সুস্পষ্ট বুঝেছি, তা হল; সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পরের সাক্ষাতে পড়তেন- ‘ তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে এ দুআটি পাঠ করা।

কেউ যদি ‘ঈদ মুবারক’ বলে তাতে কোন অসুবিধা নেই। ঈদেরদিন পরস্পরের সাক্ষাতে মুসাফা ও মুআনাকা করাতেও কোন শরয়ী নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ঈদের নামাজশেষে মুসাফা ও মুআনাকাকে কেউ যদি আবশ্যক হিসেবে মনেকরেন তাহলে তা হবে সুস্পষ্ট বিদআত। আল্লাহ আমাদেরকে সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবার তাওফিক দিন। আমীন।

দুই.

🔹
ইসলামে ঈদের সুচনা কিভাবে হল?

ঈদগাহে উপস্থিত প্রিয় ঈমানদার ভাই ও বন্ধুগণ, হিজরতের প্রথম বছরেই ঈদের সূচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সাহাবী আনাস ইবনু মালিক রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যখন নবীজী আলাইহিসসালাম মক্কাহতে হিজরতকরে মদীনায় যান। তখন তিনি দেখেন মদীনাবাসী বছরে ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ নামে দুটি স্পেশাল দিবস পালন করছেন। নবীজী আলাইহিসসালাম জিজ্ঞেস করেন, হে মদীনাবাসী- ‘তোমরা এ কিসের দিবস পালন করছো?’ মদীনার মানুষ নবীজীকে জানান, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ- এ দুটি দিবস জাহিলিযুগে আমাদের পূর্বপুরুষগণ পালন করতেন। তাদের কাছথেকে বংশপরম্পরায় পাওয়া সংস্কৃতি বছরে এ দুটি দিবস আমরা আনন্দফূর্তি ও খেলাধুলাসহ পালনকরে থাকি’।

নবীজী আলাইহিসসালাম মদীনাবাসীকে বলেন,

قَدْ أَبْدَلَكُمُ اللهُ خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمُ الأَضَحٰى وَيَوْمُ الْفِطْرِ

আল্লাহ রাববুল ‘আলামীন এ দুটি দিনের চেয়েও উত্তম দু’টি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন। আর সেই দিন দু’টি হল : ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতর।
[আবূ দাউদ, হাদীসনং- ১১৩৪; নাসাঈ, হাদীসনং- ১৫৫৬] (হাদিসের মান সহীহ)

তিন.

🔹
ঈদের দিনের ফযিলত কী?

দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পরে ঈদুল ফিতরের দিন আল্লাহ তাআলা বান্দাকে পুরস্কার প্রদান করেন। নবীজী আলাইহিসসালাম ইরশাদ করেন,

فَإِذَا كَانَ يَوْمُ عِيدِهِمْ، يَعْنِي يَوْمَ فِطْرِهِمْ، بَاهَى بِهِمْ مَلَائِكَتَهُ، فَقَالَ: يَا مَلَائِكَتِي مَا جَزَاءُ أَجِيرٍ وَفَّى عَمَلَهُ؟، قَالُوا: رَبَّنَا جَزَاؤُهُ أَنْ يُوفَى أَجْرَهُ، قَالَ: مَلَائِكَتِي عَبِيدِي وَإِمَائِي قَضَوْا فَرِيضَتِي عَلَيْهِمْ، ثُمَّ خَرَجُوا يِعِجُّونَ إِلَيَّ بِالدُّعَاءِ، وَعِزَّتِي وَجَلَالِي وَكَرَمِي وَعُلُوِّي وَارْتِفاعِ مَكَانِي لَأُجِيبَنَّهُمْ، فَيَقُولُ: ارْجِعُوا فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ وَبَدَّلْتُ سَيِّئَاتِكُمْ حَسَنَاتٍ، قَالَ: فَيَرْجِعُونَ مَغْفُورًا لَهُمْ

‘অতপর যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসে। তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে বান্দাদের ইবাদত বন্দেগী নিয়ে গর্ব করেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞাসা করেন, হে ফেরেশতারা! যে মজদুর নিজ দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করে তার বদলা কী হতে পারে? ফেরেশতারা আরজ করেন, হে আমাদের রব! তার বদলা এই যে, তার পারিশ্রমিক তাকে পরিপূর্ণ দিয়ে দেওয়া হোক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে ফেরেশতারা! আমার বান্দা-বান্দিরা আমার ফরজ হুকুম (রমজান মাসের রোজা) পালন করেছে। এরপর তারা ঈদগাহের দিকে যাচ্ছে। আমার ইজ্জতের কসম! আমার প্রতাপের কসম! আমার দানশীলতার কসম! আমার বড়ত্বের কসম! আমার সুউচ্চ মর্যাদার কসম! আমি তাদের দোয়া অবশ্যই কবুল করব। তারপর আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেন, যাও! আমি তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দিলাম এবং তোমাদের গুনাহগুলোকে নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দিলাম। অতঃপর তারা ঈদগাহ থেকে নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।’ সুবহানাল্লাহ।
[ শুআবুল ঈমান; হাদীসনং- ৩৪৪৪, আল-মুজামুল কাবীর; হাদীসনং- ৬১৭,৬১৮ ] ( হাদিসটিকে কোন কোন মুহাদ্দিস মাওযু বলেছেন)

চার.

🔹
ঈদে আমাদের করণীয় কী?
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ,
•আমাদের প্রিয়নবীজী আলাইহিসসালাম ও সাহাবায়ে কেরাম রামাদানশেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ উঠলে তখনথেকে ঈদগাহে যাওয়া পর্যন্ত উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠকরতেন। নবীজী আলাইহিসসালামের যুগে মহিলাগণ ঘরে নীচুস্বরে তাকবীর বলতেন। তারা দীর্ঘমাস রোজাপালনশেষে তাকবীরের মধ্যদিয়ে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ত্ব ঘোষণা করতেন।

আল্লাহ তাআলা রামাদানের বিধিবিধান বর্ণনা করার পর ঘোষণা করেন-
لِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
“যাতে তোমরা (রমজান মাসের) সংখ্যা পূরণ কর এবং তোমাদেরকে সুপথ দেখানোর দরুন তাকবীর পাঠ (আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা) করো এবং কৃতজ্ঞতা আদায় কর।” (সূরা বাকারা: ১২৫) [ উক্ত আয়াতটিই ঈদুল ফিতরের খুতবায় আমার মুল ট্রপিক, খুতবার শুরতেই আমি আয়াতটি তিলাওয়াত করবো ইনশাআল্লাহ ]

•নবীজী আলাইহিসসালাম ঈদুল ফিতরেরদিন মিষ্টিমুখকরে ঈদগাহে আসতেন।

  • তিনি কোন বাহনে নয়, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে আসতেন।
  • নবীজী একটি স্পেশাল জামা ছিল, যা পরিধানকরে তিনি দু ঈদে খুতবা দিতেন।
    •তিনি একপথে ঈদগাহে যেতেন এবং পথ পরিবর্তনকরে অন্যপথে বাড়ি ফিরতেন।
    •তিনি আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ খবর নিতেন।
  • ঈদের নামাজেরপর কবর জিয়ারত করতেন।
  • তিনি নামাজেরপর সাদাকা করতেন।
  • আত্মীয় প্রতিবেশীর খোঁজ খবর নিতেন।
  • ঈদগাহে আসারপূর্বেই তিনি সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতেন। শুধু তাইনয়, তিনি সাদাকাতুল ফিতর অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে ঘোষণা করেছেন-
    عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنْ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ فَمَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنْ الصَّدَقَاتِ-

এ প্রসঙ্গে সাহাবী ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন- নবীজী আলাইহিসসালাম রোযাদারের অনর্থক কথাবার্তা ও অশালীন আচরণের কাফ্ফারাস্বরূপ এবং গরীব-মিসকীনদের আহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সদাকাতুল ফিতর বা ফিতরাকে নির্ধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পূর্বে তা পরিশোধ করে আল্লাহর নিকট তা ফিতরা হিসেবে গৃহিতহয়। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাজেরপর তা পরিশোধ করে, তা সাধারণ দানসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি দান হিসেবে গৃহিত হয়।
[ আবু দাউদ; হাদীসনং- ১৬০৯, ইবনু মাজা; হাদীসনং- ১৮২৭] (হাদীসের মান- হাসান)

প্রিয় ভাইয়েরা,
উল্লিখিত হাসান সনদে বর্ণিত হাদীসে যেহেতু ঈদের নামাজের পূর্বেই সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরাকে আদায়করা নবীজী আলাইহিসসালাম বাধ্যতামুলক করেছেন। কাজেই নামাজ শুরুর আগেই আপনারা যারা ফিতরা আদায় করেন নি। দ্রুত ফিতরা পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত অর্থহতে আলাদা করে নিন। এবং ঈদগাহে এখনই কোন গরীবের হস্তগত করুন। তা না হলে ঈদের নামাজেরপর ফিতরা আদায়ের কোন সুযোগ থাকবেনা। যারা ঈদের নামাজেরপর আদায় করবেন সেটা হবে সাধারণ দান। যা আপনি অন্য সময়েও করে থাকেন। [ ঈদগাহে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে আমার বিশেষ অনুরোধ ]

পাঁচ.

🔹
শাওয়ালের ৬ রোজার গুরুত্ব এবং এর ফযিলত কী?

শাওয়াল মাস হজ্জের মাসগুলোর প্রথম মাস। এ মাস থেকে হজ্জের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া হাদীসে এ মাসের একটি ফযীলত প্রমাণিত হয়েছে। নবীজী আলাইহিসসালাম ইরশাদ করেন-

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ

‘‘যে ব্যক্তি রামাদান মাসের সিয়াম পালন করবেন। অতপর শাওয়াল মাসেও ৬টি রোজা পালন করবেন, তিনি সারা বছর রোজা পালনকরার সাওয়াব পাবেন । সুবহানাল্লাহ। [ মুসলিম ; হাদীসনং- ১৬৬৪, আবু দাউদ; হাদীসনং- ২৪৩৩] (হাদীসের মান সহীহ)

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ,
পৃথিবীতে কেউই সারা বছর রোজা পালনের সুযোগ পান নি। শুধুমাত্র পয়গম্বর দাউদ আলাইহিসসালাম তার জিন্দেগীতে একদিনপর একদিন রোজা পালন করতেন। এজন্য নবীজী আলাইহিসসালাম নফলরোজা হিসেবে তার রোজাকে সবচেয়ে উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন।

সারা বছর রোজা পালন করা যায় না। ইসলামী শরীয়তের বিধানে বছরের পাঁচদিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ।
🔹১) ঈদুল ফিতরের দিন।
🔹২) ঈদুল আযহার দিন।
🔹৩) ঈদুল আযহার পরে আরো তিন দিন।

উল্লিখিত হাদীসের বক্তব্যমতে সারা বছর রোজার সাওয়াব পাওয়ার গর্বিতব্যক্তি কেবল তিনিই হবেন, যিনি প্রথমত রামাদানের সবগুলো রোজা পালন করেন। অতপর শাওয়াল মাসেও ছয়টি রোজা পালন করবেন। সুবহানাল্লাহ। তবে যিনি রামাদানের সব রোজা পরিপূর্ণ করেন নি, তিনি শাওয়ালের ছয় রোজার সাওয়াব পাবেন না। শাওয়ালের ছয় রোজা একটানা না রেখে গোটামাসে বিরতি দিয়েও রাখা যাবে।

ছয়.

🔹
আগামী একবছরের কর্মসূচী কী হবে? তার সঠিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রামাদানের ফজিলতসমূহ যদি আমরা আমলে নিই, তাহলে আমরা এমুহূর্তে নিজেদেরকে গুনাহের দিকহতে খুবই হালকা মনে করতে পারি। ইনশাআল্লাহ। কেননা রামাদানের সাহরী, ইফতার, রোজা, তারাবীহ, কদরেররাত, কিয়ামুল লাইল, ইতিকাফ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সাদাকা, যাকাত, ফিতরা ও ঈদুল ফিতরের নামাজসহ যাবতীয় আমলের সম্ভারে আমাদের নেকেরপাল্লা এ মুহুর্তে ভারী হওয়ার আলামত সুস্পষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ।
বিগত জিন্দেগীভর যেসব পাপ আমরা করেছিলাম নিশ্চয়ই তা কারো আমলনামা হতে আংশিক মুছেগেছে। কারো আমলনামা হতে শতভাগ মুছেগেছে। ইনশাআল্লাহ। এখন আমাদের উচিত আমলনামাকে একদিকে গুনাহমুক্ত রাখা, অন্যদিকে নেকআমলের চলমান গতিকে সচলরাখা। আমাদের মহান রবের নৈকট্যলাভে এগিয়ে যাওয়া।

গুনাহমুক্ত থাকা এবং নেক আমলে নিজেকে ব্রতকরার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হল;
🔹আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখা।
নবীজী আলাইহিসসালামের সুন্নাত ও সাহাবায়ে কেরামকে অনুসরণ করা।
🔹অসৎসঙ্গ ত্যাগকরা
🔹হারাম বর্জনকরা, হালাল রিযিক খাওয়া
🔹পাঁচওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমত আদায় করা
🔹মা বাবা জীবিত থাকলে তাদের খিদমাতে নিজেকে সপেদেয়া। ইন্তেকাল করলে তাদেরজন্য বেশী বেশী মাগফিরাতের দোয়া করা, তাদেরজন্য দান সাদাকাকরা।
🔹বেশী বেশী দরুদশরীফ পাঠ করা।
🔹হক্কানি ওলামায়ে কেরামের সংস্পর্শে থাকা, দ্বীনিবিষয়ে তাদের পরামর্শ গ্রহণকরা।
🔹বড়দেরকে সম্মান, ছোটদেরকে স্নেহকরা।
🔹প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সাথে সর্বোত্তম ব্যবহার করা
🔹বিজাতীয় সংস্কৃতির বিনাশ ও ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ সাধনে কাজকরা।
🔹কুরআন তিলাওয়াত বিশুদ্ধকরা এবং নিয়মিত তিলাওয়াত করা।
🔹প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩,১৪ এবং ১৫ তারিখে আইয়ামে বীজের রোজা রাখার চেষ্টা করা।
🔹তাহাজ্জুদ আদায়ে সচেষ্ট হওয়া
🔹মাঝেমধ্যে কবরস্থান যিয়ারত করা
🔹প্রতিদিন ইসলামের পক্ষে মানুষকে দাওয়াত দেয়া।
🔹ফরজ বিধানসমূহের আমানত খিয়ানত সম্পর্কে সজাগ ও সচেতন থাকা।
🔹মিথ্যাকথা বলা থেকে বিরতথাকা।
🔹চোগলখোরি ও গীবাত বা পরনিন্দা থেকে বেঁচে থাকা।
🔹স্ত্রী সন্তানসহ নিজ পরিবারের আমল তদারকি করা।
🔹দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিতকরা।
[ উল্লিখিত বিষয়সমূহের উপর অবস্থা ও সময়ের প্রেক্ষিতে দালায়িলুন নুসুস ভিত্তিক আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আমাদের সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

[ খুতবাটি শেয়ার, কপি বা ঈদগাহে পাঠ করাতে আপত্তি নেই ]

  • শামীম মজুমদার
    ২ মে, ২০২২ ইং।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top