Responsive Menu
Add more content here...

Shane Sahaba Council

শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ এর দায়িত্বশীল নীতিমালা-২০২৩।

[ কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সকল দায়িত্বশীল এবং কমিটির সদস্যদের জন্য নিন্মোক্ত নীতিমালা মানা বাধ্যতামুলক ]

১) সকল দায়িত্বশীল ও কমিটির সদস্যদেরকে অনলাইন-অফলাইনে শানে সাহাবার প্রচার করতে হবে। যারা অনলাইনে নিস্ক্রিয় তাদেরজন্য এ নীতিমালা শিথিলযোগ্য। কিন্তু যারা নিয়মিত সক্রিয়, তাদেরকে অবশ্যই অনলাইনে শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ এর নানামুখী কর্মসূচী, সংবাদ এবং তথ্য প্রচার করতে হবে। অন্যথায় সংগঠনে তিনি দায়িত্বশীল হিসেবে অযোগ্য প্রমাণিত হবেন এবং তার দায়িত্ব বাতিল করা হবে।

২) অনলাইন-অফলাইনে শানে সাহাবার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও মিথ্যাপ্রোপাগাণ্ডা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পোস্টে গঠনমুলক প্রতিবাদ করতে হবে। এবং প্রতিবাদের স্ক্রিনশট সংশ্লিষ্ট জেলা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রয়োজনহলে প্রমাণ হিসেবে প্রদর্শন করতে হবে। ফেসবুকে যারা অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক পোস্ট করে তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ হিসেবে রিপোর্ট আবেদন করতে হবে।

৩) শানে সাহাবার যে কোন পর্যায়ের কমিটির দায়িত্বশীল ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের সাথে অফলাইন ও অনলাইনসহ ব্যক্তিগত, সামাজিকসহ সবধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

৪) শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে একটি অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর ব্যানারে যেকোন দলীয় রাজনীতি চর্চা হতে মুক্ত থাকতে হবে। এ সংগঠনের প্রধান অর্থনৈতিক উৎস দায়িত্বশীল ও সদস্যদের নির্ধারিত ইয়ানত বা আর্থিক অনুদান।

তাই প্রত্যেক জেলা দায়িত্বশীল ও জেলা সদস্যের পক্ষে; সংগঠনের কেন্দ্রীয় ফান্ডে বাৎসরিক একহাজার টাকা আর্থিক ইয়ানত পরিশোধ করতে হবে।

উপজেলা দায়িত্বশীলগণ ও উপজেলা সদস্যগণের পক্ষে; জেলা ফান্ডে বাৎসরিক ৫০০ টাকা আর্থিক ইয়ানত পরিশোধ করতে হবে।

ইউনিয়ন কমিটির দায়িত্বশীল ও সদস্যগণের পক্ষে; উপজেলা ফান্ডে বাৎসরিক ৩০০ টাকা আর্থিক ইয়ানত পরিশোধ করতে হবে।

ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্বশীল ও সদস্যগণের পক্ষে; ইউনিয়ন ফান্ডে বাৎসরিক ২০০ টাকা আর্থিক ইয়ানত পরিশোধ করতে হবে। কেউ একাধিক কমিটিতে থাকলে তাঁকে উপরোক্ত ইয়ানত আর্থিক নীতিমালা মানতে হবে।

এসব অর্থ সারাদেশে ইমাম খতীব মুয়াজ্জিন খাদেমদের উপর সামাজিক অপরাধ দমন, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সেবা এবং কর্মসংস্থান বিষয়ক খাতে যথাসাধ্য খরচ করা হবে। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যালয়সহ নানা প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা হবে।

৫) প্রতিবছর জাতীয় নির্বাহী কমিটির বার্ষিক সভায় বিগত বছরের আর্থিক আয়,ব্যায় এবং যাবতীয় সাংগঠনিক বিষয়ের সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট পেশ করা হবে।

৬) প্রত্যেক জেলা দায়িত্বশীল ও সদস্যকে বছরে কমপক্ষে একবার মুমূর্ষু রোগীকে স্বেচ্ছায় রক্ত দান করতে হবে। এক্ষেত্রে গড়িমসি করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। [ যদি তিনি সুস্থ থাকেন তবে রক্ত দিবেন, অন্যথায় নয় ]

৭) সংশ্লিষ্ট গ্রুপের কোন সদস্য গ্রুপথেকে তথ্য পাচারে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমান পাওয়া গেলে; সাথে সাথে সাংগঠনিক সকল পদ-পদবী হতে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হবে।

৮) সাংবাদিক, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগণের সাথে নিয়মিত সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

মাযলুম ইমাম খতীব মুয়াজ্জিন,খাদেমসহ সামাজিক অপরাধের শিকার নীরিহ আলেম ও তাদের পরিবারকে আইন সুরক্ষা সেবা দিতে ২৪ ঘন্টার যেকোন সময় প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

৯) শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ এর দায়িত্বশীল ও সদস্যগণ শানে সাহাবার যেকোন পর্যায়ের কমিটিতে থাকার পাশাপাশি ইমাম খতীব মুয়াজ্জিন খাদেম সংশ্লিষ্ট অন্যকোন সংগঠনের কমিটি কিংবা সোস্যাল গ্রুপে সংযুক্ত থাকতে পারবে না। এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার সাংগঠনিক পদ প্রত্যাহার করা হবে।

বিশেষকরে যেসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ এবং এর নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত; এমন সংগঠনের সাথে যে কোনপ্রকারের যোগাযোগ রক্ষাথেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে।

তবে যেসব সংগঠন শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ-এর বিরোধিতা করেনা, এমন সংগঠনের কমিটিতে থাকলে, সেটা শিথিলযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

১০) মাসিক নিয়মিত মিটিং এবং অনলাইনে যেকোন জরুরি সাংগঠনিক মিটিংয়ে নিয়মিত অংশ নিতে হবে। পরপর তিনটি মাসিক সাংগঠনিক মিটিংয়ে নিস্ক্রিয় থাকলে অটোমেটিক তাঁর দায়িত্বরত পদ বাতিল করা হবে।

১১) শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ একটি সুশৃঙ্খল ও কমান্ড্যান্ট সংগঠন। এ সংগঠনের নীতি আদর্শ ও কর্মপন্থা কি হবে? তা নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী কমিটি। নীতিনির্ধারণী কমিটি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ মাঠে বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিবেন জাতীয় নির্বাহী কমিটি।

সাংগঠনিক কোন বিষয়ে পরামর্শ দিতে চাইলে তা বার্ষিক কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কমিটির মিটিংয়ে শুধুমাত্র সম্মানিত শুরা সদস্যগণ দিতে পারবেন।

এছাড়া যে কেউ যখন তখন সংগঠনের নীতিনির্ধারণী কমিটিকে পরামর্শ দেয়ার কোনপ্রকার সুযোগ নেই।

জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন,ওয়ার্ড কমিটি কিংবা অধস্থন যেকোন দায়িত্বশীল বা সদস্য; চাইলেই তার উর্ধ্বতন দায়িত্বশীলকে উপদেশ বা খবরদারীকরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এধরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্বশীলপদ বাতিল করা হবে। এক্ষেত্রে অশোভনীয় আচরণ প্রকাশপেলে আজীবনের জন্য শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ থেকে তার প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করা হবে।

১২) শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ যেকোন পর্যায়ের সাংগঠনিক কমিটির দায়িত্বশীল নির্বাচনে সেরা কানেক্টরদেরকে সবসময় অগ্রাধিকার দিবে। এক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি বা কোনরকম অনিয়ম গ্রহণযোগ্য হবেনা। সাংগঠনিক নেতৃত্ব বাচাইয়ে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলের দায়িত্ব বাতিল করা হবে।

১৩) সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি থেকে প্রতিবছর জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও মজলিসে শূরা কমিটিতে মেধাবী, ত্যাগী, সজ্জন, চিন্তক ও দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

১৪) শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ এর নীতিনির্ধারণী কমিটি ৭ জন।

জাতীয় উপদেষ্টা সদস্য ৫১ জন,

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য প্রতি জেলা থেকে ১ জন,

জাতীয় নির্বাহী কমিটি ৩১৩ জন।

জেলা ও মহানগর উপদেষ্টা সদস্য ৭ জন, জেলা ও মহানগর কমিটি ১০১ জন।

আহবায়ক কমিটি ২১ জন।

উপজেলা উপদেষ্টা সদস্য ৫ জন, উপজেলা কমিটি ৫১ জন। আহবায়ক কমিটি ১১ জন।

পৌরসভা উপদেষ্টা সদস্য ৩ জন, পৌরসভা কমিটি ৪১ জন, আহবায়ক কমিটি ৭ জন।

ইউনিয়ন উপদেষ্টা সদস্য ৩ জন, ইউনিয়ন কমিটি ৪১জন। আহবায়ক কমিটি ৭ জন।

ওয়ার্ড উপদেষ্টা সদস্য ২ জন, ওয়ার্ড কমিটি ২১ জন বিশিষ্ট হবে। আহবায়ক কমিটি ৫ জন।

প্রত্যেক কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে স্থানীয় শীর্ষ ও স্বনামধন্য এবং বিজ্ঞ আলেমগণ অন্তর্ভুক্ত হবেন।

১৫) কোন অলস, হিংসুক, পরনিন্দায়অভ্যস্ত, পরিশ্রীকাতর, বিতর্কিত, ও ফেতনাবাজ শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ এর যেকোন পর্যায়ের কমিটিতে দায়িত্বশীল ও সদস্য হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

১৬) যে কোন সংগঠনের ভাইটাল পোস্টে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ এর ভাইটাল পোস্টসমূহে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

১৭) যার যার দপ্তর তিনি পরিচালনা করবেন। তবে সভাপতি সেক্রেটারীসহ উর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের নির্দেশ মেনে। যার যে বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁকে সে দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করতে হবে।

১৮) জাতীয় নির্বাহী কমিটি, মজলিসে শূরা কমিটি, জেলা মহানগর, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির নিস্ক্রিয়দেরকে প্রতি ছয়মাস পরপর পদপদবীথেকে অব্যাহতি/ পদ-বদলকরে নতুনভাবে সক্রিয়দেরকে দায়িত্বে পদায়ন করতে হবে।

১৯) কোন কমিটিতে সিন্ডিকেট সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কোন দায়িত্বশীলব্যক্তি সাধারণ সদস্য ও অন্য দায়িত্বশীলদেরকে নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরী করার প্রমাণ পাওয়া গেলে; সাথে সাথে তার দায়িত্বসহ প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হবে।

উপরোক্ত নীতিমালা যথাযথ উপায়ে শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ এর সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও সদস্যকে মানতে বাধ্য থাকতে হবে। অন্যথায় সাংগঠনিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপথেকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি তারবিরুদ্ধে উপযুক্ত সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ পথচলার তাওফিক দান করুন। এবং ইখলাছের সাথে দায়িত্বপালণ করার জন্য কবুল করুন। আমীন।

– শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ এর নীতিনির্ধারণী কমিটির পক্ষে-

মুফতি শরীফ উল্লাহ তারেকী

মহাসচিব,

শানে সাহাবা খতীব কাউন্সিল বাংলাদেশ।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

১ অক্টোবর, ২০২৩ ঈসায়ী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top