ভূমিকা: মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। আর একটা সমাজ গড়ে উঠে; পারিবারিক জীবন সূত্র থেকে। পারিবারিক জীবন একজন মানুষের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবার পরিকল্পনার সম্পর্ক ছাড়া মানুষ দুনিয়াতে চলা; খুবই দুঃসাধ্য ও অস্বস্তিকর।
মনে রাখবেন! ইসলাম মানবজাতিকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান দিয়েছে। সেই সুবাদে পারিবারিক জীবন বিধান নিয়েও ইসলামে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পারিবারিক জীবনের সূচনালগ্ন থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত; বিস্তারিত আলোচনা ইসলামে রয়েছে। এটাই ইসলামের শাশ্বত বাণীর সামগ্রীকায়ন।
পারিবারিক জীবনের সূচনাতেই আসে; মানুষের বিয়ে-শাদী। কারণ, বিয়ে-শাদীর মাধ্যমেই এ জীবনে পদার্পণ করতে হয়। এইজন্য আমরা প্রথমেই বিয়ে-শাদী নিয়ে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে; বিস্তারিত ও বিশ্লেষণ ধর্মী আলোকপাত করার প্রয়াস চালাবো। ইনশাআল্লাহ।
চলবে….
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা -২
এ পর্যায়ে আমরা আলোচনা করবো বিয়ে-শাদী প্রেক্ষিত; ইসলামের শাশ্বত রূপান্তরিত রূপরেখা নিয়ে। ইসলামে বিয়ে-শাদীর অবস্থান; গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে। মনে রাখবেন! বিয়ে-শাদী হলো ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক ইবাদত।
কোরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন— (অর্থ) ‘তোমরা বিবাহযোগ্যদের বিবাহ সম্পন্ন করো, তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছলতা দান করবেন; আল্লাহ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞানী।’ (সুরা: ২৪ নুর, আয়াত: ৩২)।
অনত্রে আল্লাহ তায়ালা বলেন—(অর্থ) “আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা রুম : আয়াত ২১)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন — অর্থ: “বিয়ে হলো আমার সুন্নাত যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত তরিকা ছেড়ে চলবে সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (ইবনে মাযাহ : হাদিস নম্বর ১৯১৯)।
উম্মতের যুবা-তরুনদের লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন —হে যুবক সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে। কারণ বিয়ে দৃষ্টিকে অবনমিত করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোজা পালন করে। কারণ রোজা যৌন প্রবৃত্তি নিবৃত্ত করে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৬৮৫; মুসলিম, হাদিস : ৩৪৬৬)
মূলত ইসলাম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সম্পর্কে মানবজাতিকে; পূর্ণাঙ্গ ও সচ্ছ ধারণা দিয়েছেন। উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে আমরা ইসলামে বিবাহের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে সহজেই অনুধাবন করতে পারি।
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা —৩
এই পর্ব থেকে আমরা আলোচনা করবো—বিয়ে-শাদীর সূচনালগ্নে ইসলাম আমাদেরকে কি দিক নির্দেশনা প্রদান করে। এবং এই ক্ষেত্রে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার কিছু অসংগতি ও শরীয়া বহির্ভূত কর্মকান্ডের পিরিস্তিও তুলে ধরবো। ইনশাআল্লাহ।
মূলত বিয়ে-শাদীর প্রথম পর্বেই থাকে পাত্র-পাত্রি নির্বাচন প্রসঙ্গ। ছেলে পক্ষ কোন ধরনের মেয়ে নির্বাচন করবে। মেয়ে পক্ষ কোন ধরনের ছেলে নির্বাচন করবে। এই নিয়ে সবাই একধরনের পেরেশানিতে থাকে। তো এই বিষয়ে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটা হাদীস থেকে সচ্ছ ধারণা নিতে পারি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন —
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ( تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ : لِمَالِهَا ، وَلِحَسَبِهَا ، وَلِجَمَالِهَا ، وَلِدِينِهَا ، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ )
অর্থ: “আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—”চারটি গুণ দেখে নারীকে বিবাহ করা হয়; তার ধন-সম্পদ, তার বংশ মর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য এবং তার দ্বীন-ধর্ম দেখে। তুমি দ্বীনদার পাত্রী লাভ করে সফলকাম হও। (অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।)’ [বুখারি ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬, নাসায়ি ৩২৩০, আবু দাউদ ২০৪৭, ইবন মাজাহ ১৮৫৮, আহমদ ৯২৩৭, দারেমি ২১৭০]
বর্ণিত হাদীসে নারীদের চারটি বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণত এই চারটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারিণী নারীদেরকেই মানুষ বিয়ে করে থাকে। তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এটাকে সমর্থন করেছেন। তার মানে বুঝা গেল বিয়ে করার সময় একজন পুরুষের জন্য এই চার বৈশিষ্ট্যের অধিকারিণী নারীদেরকেই বিয়ে করা শোভনীয়।
তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চতুর্থ যেই বৈশিষ্ট্যৈর কথা বলেছেন। এবং সেটাকেই প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেটা হলো মহিলার দ্বীনদারি। অর্থাৎ যেই মহিলার মধ্যে পরিপূর্ণ ও সামগ্রিক দ্বীনদারি থাকবে; তাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। এবং এই বৈশিষ্ট্যের বেষ্টনীতে থাকাকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফলতার মাপকাঠি নির্ধারণ করেছেন।
মনে রাখবেন! সম্পদ, সৌন্দর্য্য ও বংশমর্যদা মানুষের আত্মিক ও নৈতিক উন্নতি করতে পারে না। এগুলো হচ্ছে একেবারেই ক্ষনস্থায়ী। আজ আছে তো; কাল নাই। কিন্তু দ্বীনদারি এমন এক বৈশিষ্ট্যের আলোকরশ্মি; তা মানুষের আত্মিক ও নৈতিক উন্নতি করে। মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। নৈতিক অবক্ষয় ও পদস্খলণ থেকে হেফাজত করে।
এর মাধ্যমেই মানুষের পারিবারিক জীবনে শুখ-শান্তির ফোয়ারা বয়ে যায়। সেই দম্পতি উপনিত হয়; নীতি-নৈতিকতার সর্বোচ্চ শিখরে। এটাই সময়ের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। একজন মুমিন হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত হলো —রাসূলের এই হাদীসের উপর পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সহিত নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা।
চলবে…
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা—৪ (গত পর্বের পর)
যখন দেখা যাবে উল্লেখিত চার বৈশিষ্ট্যের প্রথম তিনটার যে কোন একটা পাওয়া গেছে; তবে চতুর্থ বৈশিষ্ট্য পরিপূর্ণ বিদ্যমান। তখন উচিত হলো সেখানেই সম্পর্ক গড়ে তোলা। অর্থাৎ বিয়ে-শাদীর চুড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এটাই একজন ঈমানদারের ঈমানদ্বীপ্ত চেতনার বহ্নিশিখা।
কিন্তু আমরা দেখি—আমাদের সমাজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ উল্টো পথে চলে। অধিকাংশ মানুষই এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখেনা। মুসলিম দাবী করেও আমরা এসমস্ত ক্ষেত্রে ইসলামের নূন্যতম অনুসরণ করিনা। কিংবা করার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করিনা। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এটাই আমাদের পদস্খলণের অন্যতম তিক্ত সত্য।
আসলে একটা বিষয় আমাদের সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যদি আমরা নীতি-নৈতিকতার সর্বোচ্চ শিখরে উপনিত করতে চাই। যদি তাদেরকে আদর্শিক চেতনাবোধ সম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে চাই। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দুনিয়াতে আসার প্রথম সিড়ি তথা বিয়ে-শাদীকে সঠিক ও সুন্দর কর্মপন্থায় আঞ্জাম দিতে হবে। ইসলামী ভাবাদর্শে শাণিত হয়ে; এই সিঁড়ি বেয়ে যেতে হবে।
তাহলেই জাতিকে আমরা একদল আদর্শিক চেতনাবোধ সম্পূর্ণ প্রজন্ম উপহার দিতে পারব। সুস্থ-সুন্দর মন-মানসিকতা ও নৈতিকতার সর্বোচ্চ শিখরে উন্নতি সম্পূর্ণ একদল জানবাজ প্রজন্ম রেখে যেতে পারবো।
চলবে……
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা —৫ (গত পর্বের পর)
একজন পুরুষ যেরকম মহিলার দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দিবে। ঠিক তেমনি ভাবে একজন মহিলাও তার স্বামি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনদার পুরুষকে প্রাধান্য দিবে। কারণ, বদ্বীন পুরুষ স্বামি হিসেবে গ্রহণ করলে; শুখ-শান্তির ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না। বিশৃঙ্খলা আর অশান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ হতে হয়।
দ্বীনদারির সাথে আরো কিছু বিষয়ও বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়। যেমন: উভয়ের বংশমর্যদার প্রতিও খেয়াল রাখা চাই। উন্নত ও মর্যাদাবান বংশ ওয়ালা পুরুষ ও রকম অভিজাত বংশের মেয়েকেই বিয়ে করা বাঞ্ছনীয়। এগুলোকে ইসলামের ভাষায় “কূপু বা পরস্পরের সমতা” বলে ব্যক্ত করা হয়। সম্পদের ক্ষেত্রেও সমতা রক্ষা করা শোভনীয়। ছেলে-মেয়ে উভয়ের মাঝে যাতে সম্পদের ক্ষেত্রে বিস্তর ফারাক না হয়ে যায়।
অনেক সময় পরবর্তীতে এ বিষয়গুলো মারাত্মক বিপর্যয় নিয়ে আসে। বিভেদের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। অহেতুক অসন্মানের স্বীকার হতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষ দেখা যায়; চুড়ান্ত বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে হয়। এবং পরিশেষে তাই ঘটে। এইজন্য ইসলাম এই বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। যদিও এগুলোকে বাধ্য-বাধকতার কাঠগড়ায় দাঁড় করায় নি। কিন্তু উৎসাহ প্রদান করেছে।
চলবে…..
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা -৬ (গত পর্বের পর)
বিয়ের কথাবার্তা যখন প্রায় চুড়ান্ত হয়ে যাবে। যেমন ছেলের পরিবার মেয়েকে দেখলো। মেয়ের পরিবারও ছেলেকে দেখলো। উভয় পরিবারের সামগ্রীক বিষয়ে আলোচনাও হলো। তখন একেবারে চুড়ান্ত ধাপে উপনিত হওয়ার জন্য; ছেলে মেয়েকে দেখতে যাওয়া।
এর পূর্বে না যাওয়াটাই ভালো।
এই ক্ষেত্রে মেয়ে ও তার অভিভাবকদের উচিত হলো—মেয়েকে পরপুরুষের চোখের ভোগ্যপণ্য না বানানো। অর্থাৎ আগে-পরে কোন কথা-বার্তা ছাড়াই; মেয়েকে না দেখানো চাই। অনেকেই দেখা যায় এই বিষয়গুলোর প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেবই করে না। বরঞ্চ অনেকের তো টাকা কামানোর মত নিম্ন মানের চিন্তাও হৃদয় গহীনে ঘুরপাক খায়। এটা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
মেয়ে দেখানোর ক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় লক্ষণীয় হলো—মেয়েকে যাতে পুরুষদের মধ্যে ছেলে ছাড়া আর কেউ দেখতে না পারে। শুধুমাত্র বিয়ের উদ্দেশ্যে ছেলেই মেয়েকে দেখতে পারবে। আমাদের সমাজে দেখা যায়—ছেলের সাথে; ছেলের বাবা, বড় ভাই, দুলাভাই সহ আরো অনেকেই দেখে। ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। এখানে পর্দার মতো ইসলামের শাশ্বত একটা বিধান লঙ্ঘিত হয়।
ছেলের বাবা হয়তো মনে করে—আরে বিয়ে হলেতো আমি শশুরই হবো। তখন তো দেখা দিতে অসুবিধা নেই। তো এখন একটু দেখে নেই। অনেক জায়গায় তো এইসব কারণে মারাত্মক ঝামেলাও তৈরি হয়। কিছু কিছু জায়গায় তো শুধুই এই কারণে বিয়েও ভেঙে যায়। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে এটা মারাত্মক ধরনের অপরাধ।
চলবে….
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা —৭ (গত পর্বের পর)
মেয়ে দেখার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো— শুধু মেয়ের চেহারা দেখবে। চেহারার সাথে হাত, পাও দেখা যেতে পারে। ছেলে মেয়েকে স্বল্প সময়ের জন্য দেখবে। একেবারে দীর্ঘ সময় ধরে গল্প-সল্প করা নিষেধ। মেয়ে দেখার পর সর্বদিক থেকে পছন্দ হলে বিয়ে-শাদীর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়াই ভালো। তবে মনে রাখতে হবে, পরস্পর দেখা-দেখির পরও; বিয়ে হওয়ার এক মূহুর্ত পূর্ব পর্যন্ত; ছেলে মেয়ের সাথে কোন ধরনের কথা বলতে পারবে না। দেখা-সাক্ষাৎ তো করতেই পারবে না।
এই ধরনের কোন কিছু ঘটলে কবিরা গুনাহ হবে। অথচ আমাদের সমাজে মনে করা হয়; বিয়ে-শাদীর বিষয় চুড়ান্ত হয়ে গেলে; ছেলে মেয়ের সাথে কথাও বলতে পারে, দেখাও করতে পারে। এবং অভিভাবকরাই এই ক্ষেত্রে অগ্রসরমান থাকে। তারাই সুযোগ করে দেয়। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে এটা মারাত্মক ধরনের অপরাধ। কথা বলার দ্বারা যবানের যিনা হবে। আর দেখা করার দ্বারা অন্তর ও চোখের মিনা হবে। এইজন্য এগুলো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
অনেকেই আবার বিয়ের আগে (ইযাব-কবুলের আগে) মেয়েকে আংটি পরিয়ে দেয়। এটাকে এঙ্গেজমেন্টের প্রতিক হিসেবে ধরা হয়। এবং মনে করে আংটি পরানোর দ্বারা কথা বলা, দেখা করা জায়েয হয়ে গেছে। মনে রাখবেন! বিবাহের ইযাব-কবুলের এক মূহুর্ত আগেও এগুলো বৈধ নয়। আর আংটি পরানোর বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিতে যদিও নিদৃষ্ট কোন বিধি-নিষেধ নাই। তারপরও এটা ইসলামের সুমহান আদর্শিক চেতনা ও নৈতিক সংস্কৃতি নয়।
চলবে…
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা —৮ (গত পর্বের পর)
এ পর্যায়ে আমরা বিবাহ কেন্দ্রিক সমাজের আরও কিছু অসংগতি ও শরীয়া বহির্ভূত অপসংস্কৃতি তুলে ধরার প্রয়াস চালাবো। ইনশাআল্লাহ।
আমাদের সমাজে দেখা যায় বিবাহ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে; অনেক আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে অনেক আয়োজন দেখা যায়—ইসলামী শরীয়া বহির্ভূত। যেমন: নাচ-গানের আয়োজন ও আতশবাজি সহ আরও অনেক কিছু। এছাড়াও দেখা যায় এমন অনেক অপ্রয়োজনীয় আয়োজন করা হয়; যেগুলোকেও ইসলাম যথাযথ সমর্থন করে না। যেমন: হাজার হাজার টাকা খরচ করে বিবাহের গেইট তৈরি করা ইত্যাদি।
আবার দেখা যায় অপর পক্ষের লোকজন থেকে টাকা কালেকশন করারও ব্যবস্থা করা হয়। এটা মূলত গেইটের সামনে করা হয়। দেখা যায় অনেক অতিথি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই টাকা দিতে চায়না। অনেকেই সন্তুষ্ট ব্যতিরেকেই এক ধরনের বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে থাকে।মনে রাখবেন! এরকম হলে কিন্তু এই টাকা গ্রহণ করা জায়েয হবেনা। কারণ, হাদীসে এসেছে— “কোন ব্যক্তির সম্পদ তার সন্তুষ্ট ব্যতিরেকে গ্রহণ করা হালাল নয়”।
অতএব, আমাদের সবাইকে এই ধরনের বিষয় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সোচ্চার হতে হবে। সমাজ—সংস্কৃতিকে সঠিক কর্মপন্থায় পরিচালিত করতে হবে। দৃঢ়প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে সমাজের এই ঘোর অমানিশাকে দূর করতে হবে। তবেই আমরা সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবো।
চলবে….
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা -৯ (গত পর্বের পর)
এ পর্যায়ে আমরা বিবাহের কাবিননামায় উল্লেখিত ১৭ নং ও ১৮ নং ধারা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করবো। মূলত এই দুটি ধারা স্বামি কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান সম্বলিত। যেটাকে শরীয়তের পরিভাষায় “তাফয়ীজে তালাক” বলা হয়। সমাজের প্রচলিত ভাষায়”ডিভোর্স” বলা হয়। নারীর উপর বৈষম্য দূর করার জন্যই ইসলামী শরীয়তে এটার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
নিয়ম হলো ইযাব-কবুলের সময় স্বামি কর্তৃক এই অনুমোদন গ্রহণ করা। এবং সঠিকভাবে বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত কিছু শর্তকে সামনে রেখে “তাফয়ীজ”-র অনুমতি প্রদান করা। তারপর নিদৃষ্ট যায়গায় দস্তখত প্রদান করা। কিন্তু আমাদের সমাজে দেখা যায় ১৭ নং ধারা ও ১৮ নং ধারাগুলো আগেই কাজি সাহেব পূরুণ করে নেয়। এটা স্বাভাবিক নিয়ম বহির্ভূত।
তবে হ্যাঁ, এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলো— স্বামী কোথায় দস্তখত দিচ্ছে, কোন বিষয়ের উপর দস্তখত দিচ্ছে এটা স্বামীকে অবহিত করা। তাহলে আর কোন সমস্যা থাকবে না। কিন্তু যদি স্বামী কোন কিছুই না জানে। তাহলে কিন্তু “তাফয়ীজ” অনুমোদনের প্রশ্নে সন্দেহ থেকে যাবে। এটা শরীয়তের স্বাভাবিক নীতিমালা। এভাবে হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। এভাবেই হওয়া উচিত। তাহলে আর ক্লু থাকলো না।
তবে বর্তমান মুহাক্কিক অনেক উলামায়ে কেরাম বলেন — “উরফ”(সমাজের রীতি-নীতি প্রেক্ষিত শরীয়ত অনুমোদিত দলিল) হিসেবে এভাবে হলেও “তাফয়ীজ” কার্যকর হবে। যেহুতু সাধারণত সবাই এগুলো কম-বেশি জানে। এখানে আরেকটা বিষয় লক্ষণীয় হলো—ধারায় উল্লেখিত শর্ত পাওয়া গেলেই শুধুমাত্র মহিলা ডিভোর্স তথা তালাক গ্রহণ করতে পারবে। উল্লেখিত শর্ত না পাওয়া গেলে ডিভোর্স দিতে পারবে না।
কিন্তু আমাদের সমাজে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা যায়; যথাযথ শর্ত পাওয়া যায় নি। তারপরও ডিভোর্স দেওয়া হয়েছে। এটা কিন্তু সহীহ হবেনা। দেখা যায় সামান্য কিছু হলেই মহিলা ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। অথচ ধারায় উল্লেখিত কোন শর্তই পাওয়া যায় নি। মনে রাখবেন! এর দ্বারা ডিভোর্স হবে না। আর যেহুতু ডিভোর্সই হবেনা। সুতরাং মহিলার জন্য অন্য কোথাও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াও জায়েজ হবে না।
যদি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়; তাহলে বাকি জীবন যিনা-ব্যাভিচারের মধ্যে দিনাতিপাত হবে। এইজন্য এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে খুবই শতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে ঐ সমস্ত মেয়েদেরকে বলবো যারা স্বামীর সাথে সামান্য মনমালিন্য হলেই ডিভোর্সের চিন্তা ভাবনা করে ফেলে। এবং এক পর্যায়ে তা বাস্তবায়নও করে ফেলে। অথচ এই শর্তে তাকে ডিভোর্সের অনুমতিই দেয়া হয়নি।
চলবে….
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা -১০ (গত পর্বের পর)
আনুষ্ঠানিক ভাবে বিবাহের সুন্নাহ পদ্ধতি হলো—প্রথমে বিবাহের খোতবা পড়া হবে। এই ক্ষেত্রে খোতবাটা স্বয়ং ছেলে পড়াটাই উত্তম। কিংবা কোন ভালো আলেম অথবা কোন পরহেজগার-মুত্তাকি ব্যাক্তির মাধ্যমে খোতবা পড়াবে। খোতবার মধ্যে তৎসংশ্লিষ্ট কোরআনের কিছু আয়াত ও হাদীস থেকে কয়েকটি হাদীস তেলাওয়াত করবে। খোতবা শেষ হওয়ার পর ইযাব-কবুলের প্রসঙ্গ আসবে।
ইযাব-কবুলের ক্ষেত্রে সুন্নাহ পদ্ধতি হলো—ছেলের সামনে মেয়ের অভিভাবক/উকিল (প্রেক্ষাপট আসলে); মেয়ের নাম, বাবার নাম ও মহরের কথা উল্লেখ করে বিবাহের প্রস্তাব দিবে। মহরে মুয়াজ্জালের (নগদ মহর) কথাও উল্লেখ করা যেতে পারে। তারপর ছেলে কবুল অথবা আলহামদুলিল্লাহ বলবে। ব্যস! বিয়ে সংগঠিত হয়ে গেছে।
উপস্থিত সবাই সাথে সাথে তাদের বরকতের জন্য দোয়া করবে। এই সময়ে হাদীসে বর্ণিত দোয়া হলো —
بارك الله لكما، وبارك عليكما، وجمع بينكما فى خير.
এই দোয়া পড়ার পর চাইলে দুরূদ শরীফ পড়ে পুনরায় মুনাজাত করা যেতে পারে।
এবার আসুন! আমাদের সমাজের কিছু চিত্র তুলে ধরি। আমাদের সমাজে ইযাব-কবুলের আগ মুহূর্তে “ইয্ন” নিয়ে যথেষ্ট বেগ পোহাতে হয়। মূলত মেয়ের কাছ থেকে “ইয্ন” নেওয়ার জন্য সতন্ত্র ভাবে কোন কিছু করা প্রয়োজন নেই। যখন থেকে মেয়ের বিবাহ নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। কোন্ ছেলের সাথে তার বিয়ে হচ্ছে। কোথায় হচ্ছে। মূলত মেয়েকে এগুলো সম্পর্কে জানানোর পর তার পক্ষ থেকে সরাসরি সমর্থন কিংবা মৌন সমর্থনই হচ্ছে “ইয্ন”।
কিন্তু দেখা যায় বিবাহের আগ মুহূর্তে “ইয্ন” নিয়ে আসার জন্য মানুষজন খুব দৌড়া-দৌড়ি করে। যেটা একেবারেই নিষ্প্রয়োজন ও অহেতুক। হ্যা! কেউ যদি তারপরও ঐ মুহূর্তে ইয্ন নিতে চায়। তাহলেও সেটা সঠিক কর্মপন্থায় নিতে হবে। শরীয়ত অনুমোদিত নয়; এমন পন্থায় নিলে গুনাহের ভাগিদার হতে হবে। যেটা আমাদের সমাজে অহরহ দেখা যায়।
যেমন যাদের সাথে দেখা দেয়া না জায়েজ; কোন ভাবেই তারা “ইযন” আনার জন্য যেতে পারবেনা। যদিও তিনি নিকটাত্মীয় হন না কেন। এই সহজ হলো; মেয়ের বাবা, মামা, বড় ভাই “ইয্ন” নিবে। অনেক জায়গায় দেখা যায় মসজিদের ইমাম সাহেবকে দিয়েও “ইয্ন” নিয়ে আসে। এটা অত্যন্ত মারাত্মক গর্হিত অপরাধ। এখানে পর্দার মতো ইসলামের শাশ্বত একটা বিধান লঙ্ঘিত হয়।
আবার কোথাও দেখা যায়— “ইয্ন” নেওয়ার সময় নিদৃষ্টভাবে ছেলের বোন জামাইকে “ইয্ন”-র সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। এটার কোন ভিত্তি ইসলামী শরীয়তে নেই। এগুলো থেকে অবশ্যই আমাদের সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
চলবে…
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা-১১ (গত পর্বের পর)
বিবাহের ইযাব-কবুল মসজিদে সম্পাদন করাটাই উত্তম। অর্থাৎ ছেলে, সাক্ষিদ্বয় ও অন্যান্যরা মসজিদে অবস্থান করবে। এবং এখানেই বিবাহ সম্পন্ন হবে। ইযাব-কবুল শেষ হওয়ার পর উপস্থিত মুসল্লিদেরকে খেজুর ছিটিয়ে দেওয়া উত্তম। ছিটিয়ে দিলে বিশৃংখলার আশংকা থাকলে স্বাভাবিকভাবে হাতে হাতে দিবে। এটাই ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা।
এবার প্রাসঙ্গিক একটা কথা বলি। বিবাহের পূর্বে ছেলে-মেয়ে উভয়েরই শরীয়তের সীমারেখায় থেকে প্রয়োজনীয় সাজ-সজ্জা গ্রহণ করা জায়েয আছে। তবে আমাদের সমাজে এই ক্ষেত্রে অনেকেই শরীয়া বহির্ভূত অনেক অপকর্মে লিপ্ত হয়ে থাকে। যেমন: ছেলে মেহেদীর রঙে রঙিয়ে উঠে। তার হাত-পায়ে মেহেদীর সাজে সজ্জিত করা হয়। অথচ ছেলেদের জন্য হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করার কোন অনুমোদন শরিয়ত প্রদান করে নি।
তবে মেয়েরা দিতে পারবে; এতে কোন অসুবিধা নেই। এই ক্ষেত্রে আবার সমাজে একটা কুসংস্কার প্রচলিত আছে। যেমন: মেয়েরা নাকি পায়ে মেহেদী ব্যবহার করতে পারবেনা। মূলত তারা এই কথাটা রাসূলের প্রতি একধরনের অসমর্থিত ভক্তি থেকে বলে থাকে। সেটা হলো—যেই মেহেদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবহার করেছেন। সেটা আমরা কিভাবে পায়ে দিবো।
বাহ্যিক ভাবে যদিও এখানে রাসুলের প্রতি মহাব্বতের বহিঃপ্রকাশ বুঝা যায়। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকেরই একটা বিষয় স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসলামকে আবেগে মানলে হবেনা। কিংবা রাসূলের প্রতি আবেগী মহাব্বাত দেখালেও হবেনা। বরং শরীয়া সমর্থিত পদ্বতিতেই ইসলামকে মানতে হবে ও রাসুলকে মহাব্বাত করতে হবে। ভালোবাসার আবেগপ্রবণটাও শরীয়া সমর্থিত হতে হবে।
মূলত মেয়েদের পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা রাসূলের হাদীস থেকেই প্রমাণিত। অতএব এটা ব্যবহার করতে কোন অসুবিধা নেই। যারা এধরনের উদ্ভোট কথা বলে; তারা কিন্তু অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রে এই ভক্তি দেখায় না। যেমন আমরা যেই তৈল ব্যবহার করি এটাও তো রাসূল ব্যাবহার করেছেন। তাহলে এটাও কি পায়ে দেয়া যাবেনা? অথচ এই বিষয়ে কেউ কিন্তু আবেগ দেখায় না।
আসলে মূল কথা হলো— সর্বক্ষেত্রে শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করা। তাহলে আর কোন সমস্যা নেই। হবেও না।
ইসলামে পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা-১২ (গত পর্বের পর)
বিবাহের মহর:
এ পর্যায়ে আমরা বিবাহের মহর নিয়ে আলোকপাত করবো। মহরের ক্ষেত্রে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো; ছেলের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারণ করা। তবে বিবাহের সর্বনিম্ন মহর হলো দশ দিরহাম। অর্থাৎ দুই তোলা সাড়ে সাত মাশা বা ৩০.৬১৮ গ্রাম রূপা।
আর মহরে ফাতেমীটাও সতন্ত্র সুন্নাহ। কেউ চাইলে মহরে ফাতেমীও নির্ধারণ করতে পারে। মহরে ফাতেমী হলো ৫০০ দিরহাম। অর্থাৎ ১৩১.২৫ তোলা বা ১.৫৩০৯ কিলোগ্রাম রূপা।
এক দিরহামের ওজন হল ৩.০৬১৮ গ্রাম। বর্তমানে প্রতি তোলা রূপার মূল্য ১২০০/- টাকা হলে ১০ দিরহামের মূল্য দাঁড়ায় ৩,১৫০/- টাকা। আর মহরে ফাতেমীর মূল্য হয় ১,৫৭,৫০০/- টাকা।
স্বামীর উপর পূর্ণ মহর আদায় করা ওয়াজিব। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণ মহর পরিশোধ করতে না পারলে; কোন অসুবিধা নেই। তবে এটা ঋণ হিসেবে বাকি থাকবে। আদায় না করলে বান্দার হক নষ্ট করার গুনাহ হবে; যদি স্ত্রী ক্ষমা না করে। আর স্ত্রী ক্ষমা করে দিলে; আল্লাহ তায়ালাও ক্ষমা করবেন। ইনশাআল্লাহ।
মহরের ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে দেখা যায়—অনেকে স্বামীর সামর্থ্যের ব্যাপার বিবেচনা করে না। অনেক বেশি পরিমাণে মহর ধরে থাকে। এবং এটা পরিশোধ করারও কোন ফিকির কেউ করে না। এটাকে একধরনের মর্যাদার প্রতীক মনে করে। সুনাম-সুখ্যাতির ঢাল মনে করে। মানুষ মনে করে, মহর যত বেশি ধরা হবে ততই তার সুনাম।
মানুষ বলবে—বাহ! ওমুকের বিয়েতে এত টাকা মহর ধরা হয়েছে। তমুকের বিয়েতে এত টাকা। এধরনের বাজে চিন্তা ভাবনা মানুষের মেধাসত্ত্বায় ঘুরপাক খায়। বেশি মহর ধার্য্য করার পেছনে আরেকটি বিষয়ও সমাজে লক্ষ্য করা যায়। যেমন: কারো এই চিন্তা থাকে যে, যদি কখনো তালাক হয়ে যায়; তখন যাতে ছেলে পক্ষকে ফাঁসানো যায়। তার থেকে যাতে টাকা আদায় করা যায়।
মনে রাখবেন! এধরনের চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে একেবারেই স্থূল। বিয়ের সময়েই যদি তালাকের চিন্তা করেন; তাহলে পরবর্তীতে এই দম্পতি থেকে আর কি আসা করা যায়। এইজন্য প্রথম থেকেই নিয়ত শুদ্ধ করে নেওয়া জরুরি। তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা বরকত দিবেন।
চলবে….








